নারীর কথা

হুট করে চাইলেই তো আর নারীরা পুরুষদের সাথে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে চলতে পারে না। তারা জানে পুরুষেরা মাথায় যৌনতা নিয়ে ঘুরে। নারীর একটু ছোঁয়াতেই তাদের(পুরুষের) শরীর শিহরে উঠে,দন্ডে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। তাছাড়া তারা রাস্তা-ঘাটে চলতে ফিরতে এও বুঝে গেছে যে, লোকলজ্জা বা সামাজিকতার খাতিরে অন্য সবকিছু থেকে রক্ষা পেলেও চোখের ধর্ষণে আপনজনদের কাছ থেকেও রক্ষা পায় না নারী!
আজকাল অনেকে বলাবলি করে যে, নারীরা পুরুষদের সম-অধিকার চায় অথচ তারা পুরুষের মত সমাজে ভুমিকা রাখে না, কর্মক্ষেত্রেও না এমনকি তারা পুরুষদের মত প্রতিকূলতায় টিকে থাকার যোগ্য না! আসল পয়েন্ট এটাই যে, অনেকের মতে নারীরা পুরুষদের মত প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার যোগ্য না! হ্যাঁ, এটা অনেকেই ভাবে। আসলে পুরুষেরা কখনও ভোগ্য হয় না কিন্তু নারীদের এখনো ভোগ্য ভাবা হয়।
ঐ যে অনেকসময় দেখলেই আমাদের বিশেষ স্থানে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। উত্তর এটাই। যোগ্যতা থাকা শর্তেও তাদেরকে অন্য নানানভাবে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় বিকারগ্রস্ত পুরুষতন্ত্রের দ্বারা। আমাদের মস্তিকে যে ছয় ইঞ্চি গাছটা সজীবতায় লালিত পালিত হয়ে আসছে,তার লালন-পালনের ভার নিয়েছে সমাজ! সমাজের চোখে মস্তিস্কের এই গাছ সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত! তাই, আজকাল যখন দেখি একটা ছোট বাচ্চা- যে এই পরিবেশে থাকতে থাকতে শারীরিক পক্কতার আগেই মস্তিস্কে সেই গাছের ছবি আঁকে ফেলে, তখন আর কিছুই বলার থাকে না। এরাই বড় হয়, তাদের এতদিনের বিশ্বাস নিয়ে আর গাছের যত্ন নিতে নিতে।
এসব নানা কারণ বিবেচনা করে এটাই সত্য যে, নারীদের জন্য পৃথিবীটা খুবই কঠিন। মনে হয় তারা সত্যিই যেন পুরুষের রসদ জোগানোর জন্য সৃষ্টি!
পরিবেশ এমন যে, হাজার হাজারের ভিড়ে দুই চারজন পুরুষ যে তাদের স্বকীয়তা ধরে রাখবে, মিথ্যা পুরুষতন্ত্রের খোলস থেকে বের হবে – এটা সত্যিই কঠিন।তবুও আগের থেকে নারীরা অনেক শিক্ষিত হচ্ছে, অনেক সার্টিফিকেট অর্জন করছে। এসবের পাশাপাশি জ্ঞান চর্চায় তাদের এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষেতে আগাছা জন্মালে আমরা যেমন কীটনাশক ছিটিয়ে আগাছা দূর করি, তেমনি পুরুষের মস্তিস্কে যে আগাছা বেড়ে উঠে ঘন অন্ধকার তৈরী হয়েছে, নারীরাই পারবে তা উপযুক্ত কীটনাশক দিয়ে দূর করতে।
এখানে সচেতন পুরুষদের ভূমিকা আছে অনেক। কাউকে হতে হবে’জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই’, কাউকে ‘ইব্রাহীম সাবের ‘ আর কাউকে হতে হবে ‘সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ‘।
নারীদের বর্তমান অবস্থার উন্নতির জন্য পুরুষদের সর্বোত্তম সহায়তা ছাড়া নারীরা বিভেদের এভারেস্ট শৃঙ্গে ভারসাম্যে পৌঁছাতে পারবে না।

picture : collected.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s