ভেঙে পড়ার কথা

সবকিছু যখন ভেঙে পড়ে
ভাঙলো শেষে –
সাত পুরুষের দেখার চোখ,
মন ও মগজ রইলো না বাকী
ভাঙলো আপন বৃহৎ শোক!
হাত ভাঙলো, পা ভাঙলো
ভাঙলো মেরুদণ্ড,
ভাঙতে ভাঙতে সারা অঙ্গ
হচ্ছে খণ্ড খণ্ড!
এই ভাঙনের শব্দ ভীষণ
কর্ণকূহর পেড়িয়ে,
আর ভাঙনের ব্যর্থ হিসেব-
জীবন গেছে জড়িয়ে!
আলো ভাঙে, আঁধার ভাঙে
ভাঙে রাতের স্বপ্ন,
ভাঙন আসে খুুব গোপনে
হাওয়ায় বৃক্ষ বপনও!
ভাঙন আসে প্রেমে ও ঘৃণায়
নিত্য নতুন আঘাতে,
সব ভাঙনের শেষটা ঠেকে
ঘুম ভাঙানো প্রভাতে।


রাতের ভিতর রাত
ঘুমের ভিতর ঘুম
স্বপ্নের ভিতর স্বপ্ন
মৃত্যুর ভিতর মৃত্যু
অস্থিরতার ভিতর
অস্থিরতা!
কল্পনা,কোন রাতেই হয়না আর ক্লান্তির অবসান!

বোধ

ভোর গেল,
সকাল!
সকাল গেল,
দুপুর!
দুপুর গেল,
বিকেল!
বিকেল গেল,
সন্ধ্যা!
সন্ধ্যা, আমি ভোর থেকে যা দেখেছি
সবই অবহেলার চোখে,
দেখার কিছু রইল না আর
আঁধার সম্মুখে!

যে বলা হয়নি শোনা

আটকে যাওয়া শ্বাস
ভেসে আসা লাশ
-কিছু বলেছিল।
শ্মশানের চিতা
কবরের ব্যাপকতা
-কিছু বলেছিল।
হাসপাতালের সিলিন্ডার
অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ
-কিছু বলেছিল।
প্রিয় চোখে হাহাকার
অভাগার দুঃখভার
-কিছু বলেছিল।
কিছু বলেছিল –
আকাশ
বলেছিল –
বাতাস
বলেছিল –
নদী
বলেছিল –
বন
বলেছিল – মন!
আমরা কখনো সখনো খুব বধির!
কিছু কথা শুনতে পাই না, কিছু কাজে ধীর!

দূর হোক

অতঃপর অজ্ঞতা দূর হোক।
মূর্খতা দূর হোক।
ভণ্ডামি দূর হোক।
ক্ষতাবেগ দূর হোক।
সেরাভাব দূর হোক।
চারপাশ সুস্থ হোক।

(এখানে ‘ক্ষতাবেগ’ মানে বুঝিবেন ক্ষতিকর আবেগ এবং ‘সেরাভাব’ মানে ধরিবেন নিজেই সেরা এমন ভাব।)

বিঃদ্রঃ এখানে কাউকে জ্ঞান দিছি এমন ভুল ভাবনা ভাববেন না। উপরের ৬ টি বাক্যই ইচ্ছা বা প্রার্থনা সূচক বাক্য।

আপসোস

গত জন্মে পতঙ্গ হয়ে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়েছি বহুবার।
     পুড়েছি,মরেছি, বুঝতেই পারিনি ছলনা,
হায়,এ জন্মে আকার বদলালো ঠিকই
  আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভ্যাস কভু গেল না!

উৎসর্গঃ আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়া দ্বি-পদ সম্বলিত প্রাণিদের।

প্রার্থনা

কারো গন্তব্য নিকট বেলা!
কারো বেলায় অবহেলা!
সহেনা এই ভব খেলা
সাঙ্গ হোক তিক্ত লীলা
হায়, ভগবান! ফুলের বাগান
দাও না ফুটুক সকল কলি
আলো দেখুক আলো ছড়াক
মুগ্ধতা দিক বিশ্ব ভরাক
কেন ভাঙ্গো এই প্রতিমান
কলিতে ফুল নষ্ট করে?
রাতের ভিতর রাত দেখি রোজ
এই ভাবনায় দুঃখ পেয়ে!
অসময়ে সময় হলে
কে খুশি হয় ভালো বলে!
কে নেয় কাঁধে দুঃখ পাহাড়
যায় ভেসে রোজ গগনতলে?
বিধাতা তুমি উদার জানি
সবার মাঝেই উদার হও,
বাগান জুড়ে সব গাছেতেই
শেষ কলিটিও ফুটতে দাও।

সকলেই সুস্থ থাকুক,ভালো থাকুক, দীর্ঘ জীবন লাভ করুক।

পাগলামি

হঠাৎ করেই অন্ধকার হয়ে যায় আলো ঝলমল করা চারপাশ! শ্মশানের চিতা ছেড়ে উঠে আসে আসে ব্যক্তিঃআসল নামে নয়- ‘লাশ’ নাম ধারণ করে। কথার থুবরি দিয়ে তৈরি শত তলা ভবনের ধ্বস নামে। হাওয়ায় ফুলানো বেলুনে ফুটো হয়ে বাতাসের মত স্ববিরোধী আচরণ বেরুলে নিমিষেই মানুষের মহা গর্বের বেলুন চুপসে যায়! তবুও থামে না কেউ। জোনাকিপোকার মত নীলাভ সবুজ রঙের স্বয়ংপ্রভ আলো নিয়ে চলে সৌন্দর্য সৃষ্টি, রাত্রি যাপন। এক অদ্ভুত সুন্দর হন্টক চরিত্র সৃষ্টি করে মানুষ হাঁটে, হাঁটে অন্ধকারে! অবলোকন করে চির সাধারণকে অসাধারণের আঙ্গিকে। এ যেন নিমিষেই ধ্বসে পড়া শত তলা ভবন কিংবা চুপসে যাওয়া বেলুনের ব্যর্থতাকে ঢাকতে নির্লজ্জ রচনা। তবুও এসব রচনাতেই কেউ আলো খুঁজে। দিনের আলোর ইতিকথা হয়ত কেউ এসব রচনার প্রতিটি পৃষ্ঠা জুড়ে অনুভব করে। এ এক অদ্ভুত পাগলামি যা কেবল মানুষেই সাজে!